পাঠ অধ্যায়ন ও পুনরাবৃত্তি

জামিয়া সকল ছাত্রদের জন্য তারা যে শ্রেনীরই হোক না কেন, আগত পাঠের অধ্যায়ন জরুরী সাব্যস্ত করে, যেন শিক্ষকদের দরস প্রদান কালে ছাত্ররা সচেতন থাকে এবং পীরিয়ডে পাঠ বুঝা তাদের পক্ষে সহজ হয়। শিক্ষক মহোদয়গণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই বিষয়ে ছাত্রদের অবস্থার খোঁজ-খবর রাখেন। অনুরূপভাবে জামিয়া রাত্রিকালে সম্মিলিতভাবে পাঠের পুনরাবৃত্তি করাও ছাত্রদের জন্য জরুরী সাব্যস্ত করে। এর পদ্ধতি হল, ছাত্ররা রাতে ছোট ছোট হালকা করে বসে। প্রথমে একজন ছাত্র শিক্ষকের উপস্থাপন শৈলী অনুসরণ করে ঐ দিনের একটি কিতাবের পাঠ পুনরাবৃত্তি করে। আর অন্যান্য ছাত্ররা তা শ্রবণ করে। এরপর অন্য একজন ছাত্র অন্য একটি কিতাবের পাঠ পুনরাবৃত্তি করে এবং অন্যান্য ছাত্ররা তা শ্রবণ করে। এভাবে ঐ দিনের সকল কিতাবের পাঠের পুনরাবৃত্তি সমাপ্ত হয়। পাঠ সংক্রান্ত জরুরী কোন প্রশ্ন যদি কোন ছাত্রের মনে জাগ্রত হয়, উক্ত পুনরাবৃত্তির সময় সে ঐ প্রশ্ন উত্থাপন করে। তখন উক্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করাও পুনরাবৃত্তিকারী ছাত্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে তাদের মানসপটে পাঠের চিত্র ভালভাবে অংকিত হয়।
এই পুনরাবৃত্তির অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো, এর ফলে ছাত্ররা মনের পুঞ্জিভূত অবেগ-অনুভূতি প্রাঞ্জল ভাষায় ও সহজ-সরল পদ্ধতিতে ব্যক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করে। জামিয়ার শিক্ষক মহোদয়গণ প্রাত্যহিক পীরিয়ডগুলোর ন্যায় এই হালকাগুলোও তত্বাবধান করেন।
উল্লেখ্য যে, এই পদ্ধতিতে প্রাত্যহিক পাঠের পুনরাবৃত্তি “দরসে নেজামী”র পাঠক্রম ও শিক্ষা কারিকুলামের একটি বৈশিষ্ট, যার ভিত্তিপ্রস্তর রেখেছিলেন আল্লামা নিযামুদ্দীন লখ্‌নভী (রহ.) [ মৃ. ১১৬১ হি.], মুসলিম বিশ্বে যার রয়েছে গুঞ্জন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে বিস্ময়কর প্রভাব।