জামিয়া প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

প্রতিষ্ঠাতা শায়খ সন্দিপী (রহঃ) প্রায় ৩০ বছর নিজ এলাকা সন্দিপে ইল্‌মের খেদমত এবং মানুষের ইসলাহ ও সংশোধনের কাজে ব্রতী থেকেছেন। এ সময় তাঁর হাতে জন্ম নেয় হাজার হাজার আলিম এবং আল্লাহর পথে নিবেদিত প্রাণ বিশাল এক জামাত। তারপর আল্লাহ তাঁর অন্তরে এক বিশেষ অনুপ্রেরণা জাগ্রতা করলেন। শায়খ তাঁর অন্তরে রাজধানী ঢাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকাসমুহে ইসলামী ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসারে প্রবৃত্ত হওয়ার প্রবল আগ্রহ লক্ষ করলেন। তিনি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করলেন। প্রথমে তিনি নরসিংদি জেলার ইসলামপুর এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদরাসার মসজিদেই তিনি লাগাতার সাত বছর প্রতি রমযানে এ’তেকাফ করেন। ইসলামপুর মাদরাসাটি যখন তিলে তিলে গড়ে উঠল, ধীরে ধীরে মুকুলিত হলো, তখন তিনি ঢাকায় আসেন। একটি বৃহতাকারের মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। কিন্তু সে সব স্থানের একটিও তাঁর পছন্দ হলো না। অবশেষে তিনি কাফেলাসহ ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে দক্ষিণ পূর্ব কোণে সাড়ে এগার কিলোমিটার দূরুত্বে অবস্থিত কাঁচপুর ব্রিজের অদূরে “নিমাইকাশারী” ( বর্তমান মাদানী নগর (১) ) এলাকায় পৌঁছলেন এবং সেখানে দীর্ঘদিনের লালিত শত বাসনা বাস্তবায়নের আশা নিয়ে পরিকল্পিত মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধন্ত নিলেন।
উল্লেখ্য যে, “নিমাইকাশারী” নামক এলাকাটি তখন হত্যা ও লুন্ঠনের অরণ্য এবং ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। তাই মানুষ দিন-দুপুরেও এই এলাকার পার্শ্বদিয়ে অতিক্রম করতে আতংবোধ করত। খুন-খারাবী, ধর্ষণ এবং ছিনতাই ও লুন্ঠনের জন্য প্রশিদ্ধ এই নিমাইকাশারী এলাকাকেই শায়খ জামিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করলেন। তখন তাতে আল্লাহর কী হেকমত নিহিত ছিল তা হৃদয়ঙ্গম করা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ভালোভাবেই উপলব্দি করতে পেরেছে যে, আল্লাহ তা’আলা বস্তুত তাঁর ওলীকে ব্যবহার করে এই এলাকার রক্তপাতকারী ও খুনীদের জীবনের মোড় পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন শায়খকে দিয়ে ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন এই এলাকায় আলো বিকিরণ করবেন। তাই এই এলাকার প্রতি তাঁর অন্তরে বিশেষ অনুরাগ ও আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যখন এলাকার সে সময়ের পরিস্থিতি স্বরণ করে আজকের বিদ্যমান অবস্থার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, তখন তারা আল্লাহ তা’লার ক্ষমতা দেখে রীতিমত অবাক হয় এবং বলতে বাধ্য হয়-“ হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তুমি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছ, আমরা তো শুধু তা-ই জানি। নিশ্চয় তুমি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান”। যে জামিয়ার সূচনা ছিল মাত্র ১৬ জন ছাত্র দিয়ে, সে জামিয়া আজ শতের অধিক ছাত্রে গিজগিজ করছে।