জামিয়ার লক্ষ্য উদ্দেশ্য

দারুল উলুম দেওবন্দের নেক সন্তান হিসেবে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের চিন্তা-চেতনা ও লক্ষ্য-টার্গেটকে গভীরভাবে উপলব্দিকারী হিসেবে জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতায় শায়খ সন্দিপী (রহঃ) যে সমস্ত আবেগ ও চেতনা দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক উত্তারাধিকার রূপে লাভ করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করাই হল জামিয়ার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। সুতরাং আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানী নগর, ঢাকা-এর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হল-
১. আরবী ব্যাকরণ ও বালাগাত (অলংকার শাস্ত্র) ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়সমুহ এবং কুরআন-হাদীস থেকে উতসারিত ফিকাহ (ইসলামী আইন শাস্ত্র), আকাঈদ শাস্ত্র ( ইসলামী দর্শন) ইত্যাদি বিষয়সহ কুরআন-হাদীসের গভীরতর ও সহজতর শিক্ষাদান।
২. ইসলাম অনুধাবন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে কোন বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা থেকে দূরে অবস্থান করে, ইসলাম বিষয়ে অন্তরদৃষ্টিসম্পন্ন এমন একদল আলিম তৈরী করা, যাঁরা যুগের প্রত্যাশিত পদ্ধতিতে ইসলামের সেবায় আগ্রহী থাকবে।
৩. মুসলমানদের সন্তানদের অন্তরে আহ্‌লে সুন্নাত ওয়াল্‌ জামাতের আকীদা-বিশ্বাস দৃঢ়মূল করণ।
৪. বিশিষ্ট ও সাধারণ সর্ব শ্রেনীর মানুষের উপযোগী করে ইসলামকে উপস্থাপন করণ। নিম্মোক্ত বাণীতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রাঃ) এ কথাই বলেছেন-“তুমি যদি মানুষের সামনে এমন কথা বল যা তাদের অনুধাবন শক্তির উর্ধ্বে, তাহলে তা কারো কারো জন্য ফেতনার কারণ হয়ে যাবে”।  ( মুকাদ্দিমাতু মুসলিম, পৃষ্ঠা-৯)
৫.  ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং সমৃদ্ধ ইসলামী উত্তরাধিকারের ত্তত্বাবধান।
৬. আরবী ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক প্রচার-প্রসার। কারণ, আরবী ভাষাই হল কুরআন-হাদীসের জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাত্র। তাই এই ভাষায় একজন মানুষের যে পরিমাণ পারদর্শিতা অর্জন হবে, তাঁর কুরআন-হাদীসের সরাসরি জ্ঞান ততটুকু অর্জন করা সম্ভব হবে। বস্তুত আরবী ভাষার গভীরে অনুপ্রবেশ এবং আরবী ভাষাতত্ত্বের অগাধ জ্ঞান অর্জন করা ব্যতিত কুরআন ও হাদীসের গভীরে পৌঁছা কল্পনা করা যায়।